সিটি নির্বাচনকে যে দৃষ্টিতে দেখলো বিশ্ব সংস্থাগুলো

গত ২৮ এপ্রিল (মঙ্গলবার) অনুষ্ঠিত হলো দেশের সবচেয়ে বড় তিনটি সিটি করপোরেশন ঢাকা দক্ষিণ-উত্তর এবং চট্টগ্রাম সিটির নির্বাচন। নির্বাচনের দিন দুপুরের দিকে প্রধান বিরোধী জোট নির্বাচন বর্জন করায় তিন সিটিতেই জয়লাভ করেছে ক্ষামতাসীন আওয়ামী সমর্থিত প্রার্থীরা। তিন সিটিতেই একচেটিয়া ভোট পেয়ে জয়লাভ করে তারা।

তবে এদিকে সিটি নির্বাচনের দিন থেকেই নির্বাচনকে নিয়ে চলছে নানা আলোচনা সমালোচনা। দেশের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক বিশ্লেষক, বিশিষ্টজন, দেশের নির্বাচন পর্যবক্ষেক প্রতিনিধি দলগুলোসহ রাজনৈতিক মহলে সিটি নির্বাচনে ব্যাপক ভোট জালিয়াতি ও কারচুপির বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হচ্ছে।

অপরদিকে বিশ্ব সর্বোচ্চ সংস্থা জাতিসংঘ, উইরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)সহ বিশ্বের বেশ কয়েকটি মোড়ল দেশও এই নির্বাচনকে জালিয়াতিপূর্ণ, সহিংসতাপূর্ণ এবং ব্যাপকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ বলেই আখ্যায়িত করেছে।

সিটি নির্বাচনের পরের দিনই তিন সিটি নির্বাচনে সুষ্ঠুতা নিয়ে অভিযোগের তদন্ত করার আহবান জানায় জাতিসংঘ। নিউইয়র্কের জাতিসংঘ সদর দফতরে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান সংস্থাটির মহাসচিব বান কি মুনের ডেপুটি মুখপাত্র ফারহান হক। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সিটি নির্বাচনে সুষ্ঠু ভোট না হওয়ায় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। তাই বিষয়টি দ্রুত তদন্তের প্রয়োজন। আর এ জন্য গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে অনুসরণ করা জরুরী।

তেমনি ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বলেছে, বাংলাদেশের তিন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ভোট কারচুপি, হয়রানি আর সহিংসতার বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ মিলেছে। ইইউ বলছে, নির্বাচনে ভোটাররা তাদের পছন্দমতো মতামত প্রকাশের সুযোগ পাননি। অনিয়ম ও সহিংসতার যেসব অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

এছাড়া ঢাকা (উত্তর ও দক্ষিণ) ও চট্টগ্রাম সিটিতে নির্বাচনকে জালিয়াতিপূর্ণ নির্বাচন হিসেবে উল্লেখ করেছে এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশন। তাদের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ২৮ এপ্রিল বাংলাদেশ আরেকটি জালিয়াতিপূর্ণ নির্বাচন দেখল। এ দিনের ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন ছিল প্রতারণায় ভরা। ক্ষমতাসীন দলের সমর্থক, পোলিং অফিসার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মিলে ব্যালটে সিল মারা এবং ভোট জালিয়াতি করেছেন।

তেমনি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের পক্ষ থেকে-টিআইবি সংগঠন বলেছে, নির্বাচনে নজিরবিহীন কারচুপি, গোলযোগ-সহিংসতা, ভোট প্রদানে বাধা প্রদান, দেশি-বিদেশি সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে অনৈতিক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে। এর ফলে নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা পুরোপুরি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। বিবৃতিতে টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় ও পেশী-শক্তির প্রয়োগে ব্যাপক অনিয়ম সংঘটিত হওয়ায় সদ্য-সমাপ্ত তিনটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।’

বিশ্বের এই বৃহৎ সংগঠনগুলো ছাড়াও বিশ্বের কয়েকটি মোড়ল দেশও সিটি নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ আখ্যায়িত করেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নির্বাচনে ব্যাপক ভোট কারচুপি, সহিংসতা ও ভয়-ভীতি প্রদর্শনের ঘটনায় হতাশা প্রকাশ করেছে । মার্কিন দূতাবাস থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়, ভোটের দিন পোলিং স্টেশনে এমন জালিয়াতি, সহিংসতা, ভীতিপ্রদর্শনে মতো ঘটনায় আমরা খুবই হতাশ। যেটা ঘটেছে তার যথাযোগ্য প্রমাণ আমাদের আছে। আর সেখানে ভোট কারচুপির বিষয়ে সুস্পষ্ট স্বাক্ষ্যের ভিত্তিতেই আমারা হতাশা প্রকাশ করছি।

এছাড়া অস্ট্রেলিয়া ও কানাডা এবং আরো কয়েকটি দেশও সদ্য সমাপ্ত ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সংঘটিত ভোট করচুপির মতো অনিয়ম, অবৈধ কর্মকান্ড ও সহিংসতার দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত চেয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচনী অনিয়মের সঙ্গে জড়িত সকলকে বিচারের মুখোমুখি করে ন্যায়বিচার নিশ্চিতেরও আহ্বান জানিয়েছে।

 

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s